মিয়ানমারের জেনারেলসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

গত কয়েক বছরে সবচেয়ে ঘৃণ্য মানবাধিকার হরণের ঘটনায় জড়িত ৪৯ ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। এর আওতায় দেশটিতে থাকা এসব ব্যক্তি ও সংস্থার সম্পদ জব্দ হবে এবং তারা সেদেশে প্রবেশের সুযোগ হারাবে। নিষেধাজ্ঞা পাওয়াদের মধ্যে রয়েছে ২০০৯ সালে রাশিয়ান আইনজীবী সের্গেই ম্যাগনেটস্কি হত্যায় দায়ী ব্যক্তিরা, ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যায় সম্পৃক্ত সৌদি কর্মকর্তারা, রোহিঙ্গা নিপীড়নে দায়ী মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তারা এবং উত্তর কোরিয়ার দুটি সংস্থা। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পৃষ্ঠপোষকতার বাইরে প্রথমবারের মতো এধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।মিয়ানমারের দুই সেনা কর্মকর্তাও রয়েছে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার আওতায়

বিশ্ব জুড়ে মানবাধিকার হরণের ঘটনা ঠেকাতে যুক্তরাজ্য প্রথমবারের মতো আইন প্রণয়ন করেছে। ‘দ্য গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস স্যান্কশন রেগুলেশন ২০২০’ নামের এই আইনের অধীনে মানবাধিকার হরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে দেশটি। শাস্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি বিবেচনা করা হবে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি ও সংস্থাকে। এই আইনে সোমবার প্রথমবারের মতো ৪৯ ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডোমিনিক রাব বলেছেন, এই পদক্ষেপ ‘স্পষ্ট বার্তা’ পাঠাবে।

প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তি ও সংস্থার মধ্যে রয়েছে ২৫ জন রাশিয়ার নাগরিক। এসব রুশ নাগরিক আইনজীবী সের্গেই ম্যাগনটস্কির সঙ্গে অসদাচরণ ও তাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে মনে করে যুক্তরাজ্য। রাশিয়ার একদল ট্যাক্স ও পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি উন্মোচনের পর ম্যাগনটস্কি পুলিশি হেফাজতে নিহত হন।

এছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে তুরস্কের ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ২০ সৌদি কর্মকর্তা। এছাড়া রোহিঙ্গাসহ অন্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কাঠামোবদ্ধ এবং নৃশংস সহিংসতায় দায়ী মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দুই ঊর্ধ্বতন জেনারেলও রয়েছে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার আওতায়। এছাড়া রয়েছে বাধ্যতামূলক শ্রম, নির্যাতন এবং খুনের সঙ্গে জড়িত উত্তর কোরিয়ার দুটি সংস্থা।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডোমিনিক রাব বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তারা রাজনৈতিক গুপ্তহত্যাসহ বিচার বর্হিভূত হত্যা, নির্যাতন, অবমাননাকর আচরণ, বাধ্যতামূলক শ্রম এবং দাসবৃত্তির জন্য দায়ী ছিল। পার্লামেন্টে তিনি বলেন, আজ এই সরকার এবং এই হাউস ব্রিটিশ জনগণের পক্ষ থেকে জোরালো বার্তা পাঠাচ্ছে যে, যাদের হাতে রক্ত আছে, যারা নিপীড়ক দস্যু এবং স্বৈরাচারের সমর্থক তারা এই দেশে মুক্তভাবে উল্লাস করতে পারবে না।’





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: