প্লেব্যাক রাজার আসনে এন্ড্রু কিশোর, হাত রয়েছে নায়করাজের!

নায়করাজ রাজ্জাক ও এন্ড্রু কিশোরপ্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর। কিংবা চলচ্চিত্রের গানের একক অধিপতি। কিন্তু পাঁচ দশক আগে রাজশাহীর এ সাধারণ যুবক কীভাবে বাংলা গানে নিজেকে এভাবে মেলে ধরলেন?

জানা গেল চমকপ্রদ এক ঘটনা। যেখানে প্রচ্ছন্ন প্রভাব ছিল নায়করাজ রাজ্জাকের।
এন্ড্রু কিশোরের শৈশব-কৈশোর ছাড়াও শিল্পী জীবনের শুরুটা কেটেছে রাজশাহীতে।
শিল্পীর জীবনের শুরুটা খুব কাছে থেকে দেখেছেন রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক কালচারাল অফিসার আবদুর রশিদ। তিনি এন্ড্রু কিশোরকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কয়েক শতাব্দী পরে একজন এন্ড্রু কিশোর জন্মায়। এ ক্ষতি অপূরণীয়।’
এন্ড্রু কিশোরের সংগীত জীবনের বিষয়ে তিনি জানান, রেওয়াজ ও চর্চায় ফাঁকি বলে কিছু বুঝতেন না। তার মা অনেক উৎসাহ, সাহস, পরিশ্রম দিয়েছেন আজকের এই এন্ড্রু কিশোরকে তৈরি করার পেছনে। কোনোদিন ঠিকমতো রেওয়াজ বা গানের চর্চা না করলে
মা দুধ খেতে দিতেন না। তাদের কাছে এসে এমন গল্প করতেন এন্ড্রু কিশোর নিজেও।
ওস্তাদ আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে এই শিল্পীর প্রথম দেখা। ওস্তাদের ‘সুরবাণী সংগীত বিদ্যালয়’-এ গান শিখেছেন। এই বিদ্যালয়টি প্রথমে রাজশাহী মহানগরীর ভুবন মোহন পার্কের সামনের দোতলা ভবনে ছিলো। তারপর বাটার মোড় ও সর্বশেষ বোসপাড়া মোড়ে ছিলো। সেই সময় শুধু এন্ড্রু কিশোর নয়, গান শিখতো এমএ খালেক, রিজিয়া পারভীন, ইফফাত আরা নার্গিস, আবদুল খালেক ছানা, হাবিবুর রহমান লাবু, মাইনুল ইসলামসহ অনেকেই।
আবদুর রশিদ জানান, বিদ্যালয়ে সংগীত চর্চা শেষে একে একে সবাই চলে যেতো। কিন্তু এন্ড্রু কিশোর ওস্তাদ আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছেই বসে থাকতেন। ওস্তাদ খুব ভালোবাসতে এন্ড্রু কিশোরকে।
তিনি আরও বলেন, ‘‘দরগাড়া এলাইট ক্লাবের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য রাজশাহী কলেজে নাটক ‘দুই মহল’ মঞ্চস্থ হয়। এসময় নায়করাজ রাজ্জাক, পরিচালক আজাহারুল ইসলাম খান, প্রযোজক মজিবার রহমান চৌধুরী, বাবুল, চিত্রনায়িকা নুতন আসেন। মূলত তহবিল গঠনের জন্য ‘দুই মহল’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। এই নাটকের আগে স্থানীয় শিল্পীদের গান গাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হতো। তখন এন্ড্রু কিশোর, রিজিয়া পরভীন গান পরিবেশন করেন। গান শেষে নায়করাজ রাজ্জাক আমাকে ডেকে বললেন, ‘আপনি এন্ড্রু কিশোরকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তার কণ্ঠ আমার ভালো লেগেছে। চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার সুযোগ করে দেবো।’’
তারপর এন্ড্রু কিশোর ঢাকায় যান। ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী’ গানের মধ্য দিয়ে প্লেব্যাকযাত্রা হয়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। গেয়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি গান।
অবশেষে টানা ১০ মাস ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এন্ড্রু কিশোর। প্রায় ১৫ হাজার গানে কণ্ঠ দেওয়া এই শিল্পী ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: