করোনায় একদিনে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি মৃত্যু ভারতে

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে রাশিয়াকে টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে আসার পাশাপশি ভারতে মৃতের সংখ্যাও অন্য দেশের তুলনায় বাড়ছে। সোমবার (৬ জুলাই) ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে কেবল ব্রাজিলেই এর চেয়ে বেশি ৬০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ২৯ লাখেরও বেশি আক্রান্তের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে মাত্র ২৭১ জনের। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

করোনাভাইরাসের মহামারিতে ভারতে এখন পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৬৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই তুলনায় ব্রাজিলে মৃত্যু হয়েছে ৬৪ হাজার ৮৬৭ জনের আর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ২৯ হাজার ৯৪৭ জনের।

অন্য দেশের তুলনায় ভারতে একদিনে মৃতের সংখ্যা বাড়লেও মোট আক্রান্তের হিসেবে দেশটিতে মৃত্যুর হার কমছে। সোমবার ভারতে মৃত্যুর হার ছিল ২.৮ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে এই হার ছিল তিন শতাংশ আর দুই সপ্তাহ আগে তা ছিল ৩.২ শতাংশ।

সেই তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু হার ৪.৫ শতাংশ আর ব্রাজিলে ৪.১ শতাংশ। বিশ্ব জুড়ে করোনায় মৃতের হার ৪.৭ শতাংশ। করোনাভাইরাসের মহামারিতে বর্তমানে শীর্ষ আক্রান্ত তিন দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ভারত।

মৃতের হার কম হলেও গত সপ্তাহ জুড়ে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দেশটির সরকার ধারাবাহিকভাবে লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিলের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

সোমবার রাতে ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সাত লাখ ছাড়িয়ে যায়। নতুন করে তিন হাজার ৮২৭ জন আক্রান্তের মধ্য দিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় সাত লাখ এক হাজার ২৪০ জনে। এর মধ্য দিয়ে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা ছয় লাখ থেকে সাত লাখে পৌঁছায়। গত ৩ জুলাই থেকে দেশটিতে প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছে আর গত দুই দিনের প্রতিদিন ২৪ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছে।

গত জানুয়ারিতে ভারতের কেরালায় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনের উহান শহর থেকে ফেরা এক শিক্ষার্থীর দেহে ওই ভাইরাস শনাক্ত হয়। বর্তমানে এই মহামারিতে বিশ্বজুড়ে এক কোটি ১৪ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রাজ্য মহারাষ্ট্র। সেখানে দুই লাখের বেশি আক্রান্ত ও আট হাজার ৮২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তামিল নাড়ুতে এক লাখ ১১ হাজার আক্রান্ত এবং মৃত এক হাজার ৫১০ জন। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ রাজধানী দিল্লিতে এক লাখ এক হাজারের বেশি আক্রান্ত ও তিন হাজার ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ভারতের প্রথম করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন কোভ্যাক্সিন দ্রুত চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। ভ্যাকসিনটি মানুষের ওপর পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হায়দ্রাবাদ ভিত্তিক ভারত বায়োটেক নির্মিত প্রথম ওষুধটির প্রথম ধাপের পরীক্ষা আগামী সপ্তাহে শুরু হবে। আর এর ফলাফল আসার আগেই শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা। ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য এক হাজার একশো মানুষ নির্বাচিত করা হয়েছে





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: