স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার কথা শুনে অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেন সাদাত রহমান

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে ভূষিত সাদাত রহমানকে সংবর্ধনা দেয় নড়াইল প্রেস ক্লাব।

কিশোর-কিশোরীদের সাইবার বুলিং থেকে রক্ষা করতে ভবিষ্যত কাজ  করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে ভূষিত সাদাত রহমান। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নড়াইল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবর্ধনায় তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কিশোর সাদাত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, পিরোজপুরে তাচ্ছিল্যের শিকার হয়ে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার কথা শুনে অ্যাপ তৈরির এই উদ্যোগ নেন তিনি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সর্বপ্রথম নড়াইল ভলান্টিয়ার্স নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন। ২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর সাইবার টিনস গঠন করেন। তিনি বলেন, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে অনেক সময় শিশু, কিশোর-কিশোরীর জীবননাশ হয়। অনেকে পড়ালেখা থেকে সরে যায়, অনেকে আবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে কোনও কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী আর যাতে বিপদগামী কিংবা ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার জন্যই সাইবার টিনস গঠন করেছি। পুরস্কার হিসেবে পাওয়া এক লাখ ইউরোর পুরোটাই সাইবার টিনস এর কাজে ব্যয় করবো। তরুণদের মধ্যে অনেক আইডিয়া আছে।

সাইবার টিনসের তরুণরা কাজ করে নড়াইল তথা বাংলাদেশে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে বড় একটা পরিবর্তন আনতে পারবে। নড়াইল গুণীজন জন্মের উর্বরভূমি আখ্যা দিয়ে সাদাত বলেন, নড়াইলে ইচ্ছা করলে ভালো কিছু করা যায়। নড়াইল হবে তারুণ্য নির্ভর। তরুণদের কাজ দিয়েই এ জেলার পরিবর্তন হবে। সাইবার বুলিংয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়ার কাজে তাকে সহযোগিতার জন্য পিতা-মাতা, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় সাদাত রহমানের পিতা কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন, মাতা মনিলা খাতুন, নড়াইল আব্দুল হাই সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান মল্লিক, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল কবীর টুকু, সাধারণ সম্পাদক শামীমুল ইসলাম টুলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাদাত রহমান জানান, সাইবার বুলিংয়ের আইডিয়া সারা বিশ্বে শেয়ার করবো। তিনি ভবিষ্যতে এ আইডিয়া দেশের ৬৪ জেলাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিতে চান। তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুলিশ বিভাগ ইউরোপোলের কর্মকর্তারা সাইবার বুলিংয়ের আইডিয়া নিতে তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংস্থা তার সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানান।

সাইবার বুলিং নিয়ে কাজ করা কিশোর সাদাত রহমান গত ১৩ নভেম্বর নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার পর গত ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বাংলাদেশে আসার পর ঢাকা থেকে শনিবার বিমানযোগে যশোর আসেন। যশোর বিমান বন্দর থেকে সরাসরি নড়াইলে এসে প্রেসক্লাবের দেওয়া সংবর্ধনায় যোগ দেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে তুলে ধরায় সাদাত রহমানকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

সাইবার বুলিং থেকে শিশুদের রক্ষায় একটি অ্যাপ তৈরি করে কাজ করায় ১৭ বছরের কিশোর নড়াইল সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সাদাত রহমান শিশুদের নোবেল খ্যাত এই পুরস্কার লাভ করে। এই অ্যাপ শিশু, কিশোর-কিশোরীদের নিরাপদ ইন্টারনেটের ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি গোপনীয়তার সঙ্গে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সুযোগ করে দেয়। এই অ্যাপের মাধ্যমে

কিশোর-কিশোরীরা জানতে পারে কিভাবে ইন্টারনেট দুনিয়ায় তারা সুরক্ষিত থাকতে পারে। শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নাজুক অবস্থায় থাকা শিশুদের সুরক্ষায় কাজের জন্য প্রতি বছর এই পুরস্কার দেয় কিডস রাইটস নামের একটি সংগঠন। ২০০৫ সালে রোমে অনুষ্ঠিত নোবেল বিজয়ী শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের এক শীর্ষ সম্মেলন থেকে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য এই পুরস্কার চালু করা হয়।

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হওয়া কিশোর সাদাত রহমানকে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ওয়ালটন নগদ ৫ লাখ টাকা ও দেড় ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের পদক (মেডেল) উপহার দিয়েছে।

কিশোর সাদাতের পিতা মো. সাখাওয়াত হোসেন এক প্রতিক্রিয়ার বলেন, তার ছেলে সাদাত রহমান সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। ছোটবেলা থেকে পড়ালেখার পাশাপাশি তার সাইবার বুলিং তৈরিতে ঝোঁক ছিল। কিশোর সাদাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় মুজিব বর্ষে বাংলাদেশ বড় একটা সাফল্য পেলো।

মা মলিনা খাতুন বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি সাইবার বুলিং তৈরিতে পরিবারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।

কিশোর সাদাত ২০০৩ সালে মাগুরা জেলার সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার চাকরির সুবাদে শিশু বয়সে নড়াইলে আসা। ২০১৯ সালে তিনি নড়াইল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন।





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: