উদ্বোধনের একবছরেও চালু হয়নি পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন। উদ্বোধনের একবছরেও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এটি চালু করা যায়নি।

শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে উদ্বোধনের এক বছর পরও চালু হয়নি ২৫০ শষ্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন। ফলে অত্যাধুনিক মেশিনটি রোগীদের সেবায় কোনও কাজে আসছে না। সরকারি হাসপাতালের মূল্যবান যন্ত্রটি অচল পড়ে থাকায় বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে রোগীদের সিটি স্ক্যান করতে হচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগ আর বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসীনতায় সিটি স্ক্যান মেশিনটি চালু করা যাচ্ছে না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন।

সরেজমিনে হাসপাতালের সিটি স্ক্যান বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, রোগীরা সেবা না পেলেও সিটি স্ক্যান মেশিন সচল রাখার স্বার্থে প্রতিদিন ব্যাটারি চার্জ করে কিছু সময়ের জন্য মেশিনটি চালু করা হয়। মেশিন ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রগুলোও একইভাবে সচল রাখতে হচ্ছে। এতে করে হাসপাতালের অহেতুক খরচ বাড়ছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, প্রায় দুই কোটি টাকা দামের অত্যাধুনিক সিটি স্ক্যান মেশিনটি হাসপাতালে বরাদ্দ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তোশিবা-১৬০ মডেলের এই মেশিনটি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উদ্বোধন করা হয়। হাসপাতালের নিচতলায় এক্সরে বিভাগের পাশের কক্ষে মেশিনটি স্থাপন করা হয়েছে। মেশিনটি পরিচালনার জন্য একজন টেকনিশিয়ানকেও পদায়ন করা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মেশিনটি পড়ে আছে। রোগীদের সেবায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সিটি স্ক্যান মেশিন পরিচালনার কাজে নিয়জিত টেকনিশিয়ান মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মেশিনটি পড়ে আছে। হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে  ২২০ ভোল্টের। কিন্তু সিটি স্ক্যান মেশিন চালানোর জন্য প্রয়োজন ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সংযোগ। হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায়, হাই-ভোল্টেজ ব্যাটারি চার্জ করে প্রতিদিন মেশিনটি চালু করতে হয়। এছাড়া মেশিন রুমে সার্বক্ষণিক এসি চালাতে হচ্ছে। এতে করে হাসপাতালের অহেতুক খরচ বাড়ছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতাল

পাবনা শহরের দিলালপুর এলাকার বাসিন্দা মাহমুদা নাছরীন বলেন, দেড় মাস আগে আমার মাকে গুরুতর অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। সিটি স্ক্যানের সুযোগ না থাকায় তাকে  বেসরকারি হাসপাতালে নিতে হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্থানান্তর করায় তাকে বাঁচানো যায়নি। ভুক্তভোগীরা পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিনটি দ্রুত চালুর দাবি করেছেন।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আইয়ুব হোসেন জানান, সিটি স্ক্যান মেশিনটি  সেবার জন্য স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে রোগীদের সেবা দিতে না পারাটা দুঃখজনক। এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগকে বার বার বলা হলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। গণপূর্ত বিভাগ আর বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসীনতায় সিটি স্ক্যান মেশিনটি চালু করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম জানান, ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের জন্য হাসপাতালে ইতোমধ্যে পাওয়ার সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। সাব-স্টেশন নির্মাণের সব কাজ শেষ হয়েছে, এখন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে কাজ করতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানিকে অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে। তারা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন করলেই হাসপাতালে সংযোগ প্রদান করা হবে। দ্রুত এ সম্যসার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: