ধর্ষণের শিকার হওয়ায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা!

যৌন হয়রানিধর্ষণের শিকার হয়ে এক কিশোরী অস্তঃসত্ত্বা হওয়ায় সালিশ করে তার পরিবারকেই এক লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এরপর জরিমানার টাকা দিতে দেরি হওয়ায় সোমবার (২০ জুলাই) ওই কিশোরীর পরিবারের গরু, ছাগল, ভ্যান ও বাইসাইকেলসহ বেশ কিছু জিনিস ছিনিয়ে যায় সালিশকারিরা। ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নে।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে চাঁদা দাবিসহ সমস্ত ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নহাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা সিদ্দিকি লিটন। এ অভিযোগে সোমবার ওই আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মহম্মদপুর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে থেকে সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের ভাঙ্গুড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শাহাবুল ইসলামের সঙ্গে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ওই কিশোরীর প্রেম চলছিল। সেই সুযোগে তাকে ধর্ষণ করে শাহাবুল। সম্প্রতি ওই কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন হওয়ায় তার পরিবার বুঝতে পারে সে গর্ভবতী। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গত ৮ জুলাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা সিদ্দিকি লিটনের কাছে যান ওই কিশোরীর চাচা।  এর দুদিন পর ১০ জুলাই মোস্তফা সিদ্দিকি লিটনের নেতৃত্বে এ ঘটনায় এক সালিশ হয়।  সালিশে নহাটা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ওবায়দুর, ক্যাপ্টেন, আক্কাস, মিজান, হামিদুলসহ এলাকার শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ওই সালিশে বিয়ের আগে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারকে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে তা ১০ দিনের মধ্যে দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ছয় মাসের জন্য ওই পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়।

কিশোরীর বাবা বলেন, ‘প্রেমের সুযোগ নিয়ে ধর্ষণ  করায়  বেরইল পলিতা ইউনিয়নের ভাঙ্গুড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শাহাবুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে গত ১৬ জুলাই মহম্মদপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা করেছি আমরা। ওই ছেলের সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল আমার মেয়ের। মামলার পর মোস্তফা সিদ্দিকী লিটন আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে মারধর করে। অবিলম্বে জরিমানার টাকা দিতে চাপ দেয়। আমরা তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সোমবার বাড়িতে ওবায়দুরের নেতৃত্বে কয়েকজন এসে আমার গরু, ছাগল, ভ্যান ও বাইসাইকেলসহ বেশ কিছু জিনিস ছিনিয়ে যায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ফেরত পাই।’

নহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী মিয়া বলেন, ‘লিটনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনেক অভিযোগ আছে। মেয়েটির বাবা আমার কাছে এসেছিল। আমি তাকে বলেছি, এর জন্য আইনগত ব্যবস্থা নিতে। সেভাবেই তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আশা করি দোষীরা শাস্তি পাবে।’

মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র বলেন, ‘মামলার দিনই অভিযুক্ত কলেজছাত্র সাহাবুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। সে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। সোমবার কিশোরীর বাবার মালামাল কেড়ে নেওয়ার খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং মালামাল উদ্ধার করি এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়। ঘটনার পর  মোস্তফা সিদ্দিকি লিটন ও সাবেক ইউপি সদস্য ওবায়দুর রহমানসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পরিবারটি।  অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, মারপিটের মাধ্যমে সাধারণ জখম ও পরিকল্পিতভাবে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে মোস্তফা সিদ্দিকী লিটন ও ওবায়দুর রহমানের যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: