নকল চিঠি বানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরে চাকরি চায় ‘বন্ধুর প্রেমপত্র রাইটার ক্লাব’

বিভিন্ন অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও রিজেন্ট হাসপাতালকে সুবিধা দিতে ভূমিকা রাখা স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল) ড. আমিনুল হাসান নিজেকে বাঁচাতে এবার নক চিঠির আশ্রয় নিয়েছেন। সারা বাংলার এক অনুসন্ধানী রিপোর্ট থেকে জানা যায়, দুদকের তদন্ত থেকে বাঁচতে অনিয়ম ও লাইসেন্স ইস্যুতে রিজেন্টকে সতর্ক করে দেয়া দুটি চিঠির অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে এখন। তদন্ত শুরুর আগে এই চিঠিগুলোর কোন অস্তিত্ব ছিলো না। এমনকি স্বাস্থ্য অধিদফতরের নথিতেও এই চিঠিগুলোর কোন রেকর্ড নেই। খবর নিয়ে জানা যায়, এই চিঠিগুলো সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক কর্মকর্তা অবগত ছিলেন না।

তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরে নকল চিঠি লেখার পদ সৃষ্টির এমন খবরে বেশ উৎফুল্ল ‘বন্ধুর প্রেমপত্র রাইটার ক্লাব’। ইতোমধ্যে অনেকে নকল চিঠি লেখা পদে চাকরির আবেদনও করে ফেলেছেন। প্রেমপত্র লিখতে লিখতে বন্ধুমহলে লাভগুরু উপাধি পাওয়া লাভলু বলেন, ‘অন্তত লাখ খানেক নকল চিঠি লেখার অভিজ্ঞতা আছে আমার। একবারও ধরা খাইনি। তার প্রমাণ আমার সব বন্ধুরাই তাদের প্রেমিকাকেই বিয়ে করেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরকে গ্যারান্টি দিচ্ছি, এমনভাবে চিঠি লিখবো কারো বাপের সাধ্য নাই নকল বলে।’

বিফলে চিঠি ফেরত নেয়ার আশ্বাসও দেন এই নকল চিঠি লেখক।

নকল চিঠি লেখা সহজ কাজ নয়। বরং নকল চিঠি লেখার জন্যই সবচেয়ে অভিজ্ঞ লোকের দরকার হয়। এমনটা জানানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নকল চিঠি লেখকের সমালোচনা করে অন্য একজন প্রফেশনাল প্রাইভেট প্রেমপত্র রাইটার বলেন, ‘নথিতে রেকর্ড নাই। সেজন্য নাকি ধরা খাইছে। আরে মিয়া, বন্ধুর প্রেমিকার চিঠি বন্ধুকে না জানাইয়া পাঠাইতাম আমরা, ফিরতি চিঠি আসলে তা নিজে পইড়া উত্তরও পাঠাইয়া দিতাম। বন্ধুকে জানানোর দরকার হইতো না। কই, আমরাতো জীবনেও ধরা খাই নাই। ভালোবাসা দিয়া লিখতাম মিয়া। কাজে নিষ্ঠা থাকলে এইসব ভুল হয় না।’

অন্য একজন বলেন, ‘ওরা মাত্র দুইটা চিঠি লেইখাই ধরা খাইছে। আমরা একসাথে সাত-আট জনের জন্য একাধিক করে চিঠি লিখতাম। কখনো কখনো প্রেরকের নামও ওলটপালট হইয়া যাইতো। তাও এমনভাবে ম্যানেজ দিতাম, ধরা খাওয়ারই চান্সই ছিলো না।’

বন্ধুর প্রেমিকার জন্য প্রেমপত্র লিখতে লিখতে তাকেই বিয়ে করা একজন বলেন, এখনো আমার বউ ধরতে পারে নাই, ওইসব চিঠি আমিই লিখছিলাম! হেহে।’

বন্ধুর প্রেমপত্র রাইটার ক্লাবের সদস্যদের নকল চিঠি লেখার কাজে নিয়োগ দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে অধিদফতরের নকল এক পরিচালক বলেন, ‘নকল চুক্তিতে কাজ করতে রাজি হইলে আসতে বইলেন।’





আরও পড়ুন eআরকিতে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: