মিয়ানমারে গহিন বনের রত্নাগার সামলাতে হিমশিম পুলিশ

সবুজ প্রকৃতিতে থাকা এখানকার মন্দিরগুলো অনেক আগে থেকেই পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। ছবি: এএফপিকরোনার কারণে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় মিয়ানমারের মন্দিরের শহর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ বাগানে এখন পর্যটকের আনাগোনা নেই। এই সুযোগে নিরিবিলি শহরে আস্তানা গেড়েছে লুটেরার দল। তাই সশস্ত্র পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সন্ধ্যা নামলেই টর্চ নিয়ে নেমে পড়ে পুলিশ। ৫০ বর্গকিলোমিটারের পুরো এলাকার প্রতিটি স্থাপনার আনাচকানাচে আলো ফেলে দেখে তারা।

বিশাল এই অঞ্চলকে এভাবে পাহারা দেওয়া সহজ নয়। পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেন উইন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের সুরক্ষা বাহিনী দিনরাত টহল দিচ্ছে। বিষয়টি এখনো আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। এটা এক চ্যালেঞ্জের।’

মিয়ানমারে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ বৌদ্ধমন্দিরের শহর বাগান গত বছর স্থান পেয়েছে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায়। সবুজ প্রকৃতিতে থাকা এখানকার মন্দিরগুলো অনেক আগে থেকেই পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। নির্জন, শান্ত এই অঞ্চলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রাচীন স্মৃতিসৌধ, স্তূপ, মন্দির ও ভাস্কর্য রয়েছে এখানে। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত হওয়ার পর একে নিয়ে নানা পরিকল্পনা ছিল সরকারের। তবে সবই থেমে আছে করোনার কারণে।

দর্শনার্থীদের অভাবের মন্দির ও হোটেলগুলো খালি পড়ে রয়েছে। জীবিকা নির্বাহ করতে ধুঁকতে হচ্ছে স্থানীয় লোকজনকে। একই সঙ্গে সুযোগসন্ধানীরা অবস্থান নিয়েছে চোরের ভূমিকায়। জুনের শুরুর দিকে পবিত্র স্থানজুড়ে প্রায় ১২ বার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতেরা বিভিন্ন মন্দির লুট করে তামার জিনিস, মুদ্রা, প্রাচীন মুদ্রা, জেড গয়নাসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস নিয়ে যায়।

স্থানীয় পর্যটক পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাড়াতে ৩৫তম ব্যাটালিয়নের আঞ্চলিক পুলিশ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। জিপ, মোটরবাইক ও হেঁটে পুরো জায়গা নজরে রাখছে তারা।

এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘অঞ্চলটি এত বড় হওয়ায় টহল দেওয়া সহজ নয়।’ করোনার কারণে মুখে মাস্ক পরা ছিল তাঁর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই পুলিশ সদস্য আরও জানান, এ অঞ্চলে অসংখ্য বিষাক্ত সাপ রয়েছে, সর্বদা সেই সতর্কও থাকতে হয়।

বাগানের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের উপপরিচালক মিন্ত থান বলেছেন, গত এক দশকে এই প্রথম এ শহর এতটা মারাত্মকভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কিছু প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর, ওই সময়টা এই বাগান এ সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। তিনি বলেন, এখানে যখন পর্যটকেরা ছিল, তখন কোনো চুরির ঘটনা ছিল না। তাঁর বিশ্বাস, এগুলো বহিরাগত ব্যক্তিদের কাজ। এমনকি পর্যটক না থাকায় স্থানীয় লোকজনের জীবন-জীবিকা নষ্ট হয়ে গেলেও তারা লুট করবে না বলে বিশ্বাস করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না তারা।’

পর্যটননির্ভর এ অঞ্চলের মানুষগুলো খুবই কঠিন সময় পার করছে।





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: