পৃথিবীর সবচাইতে ধৈর্যশীল লোকটা

অলংকরণ: তাইসির

পৃথিবীর সবচাইতে ধৈর্যশীল লোকটা ডিজেনগফ সেন্টারের ঠিক পাশের একটা বসে ছিল। বেঞ্চে তার পাশে আর কেউ নাই, এমনকি কবুতরের ঝাঁকও নেই। পাবলিক টলয়েটের পার্ভাটগুলা যে উচ্চস্বরে, আওয়াজ দিতেছে, তা এড়ানো কঠিন। পৃথিবীর সবচাইতে ধৈর্যশীল লোকটা মুখের সামনে একটা পত্রিকা ধরে আছে, পড়ার ভান করতেছে৷    

সে আসলে কিছু পড়তেছিলো না, কোনো কিছুর জন্যে অপেক্ষা করতেছিলো। এইটা কেউ জানে না। 

লোকটা কিসের অপেক্ষা করতেছে- এইটা যে  বলতে পারবে  জার্মান এক ট্যাবলয়েড পত্রিকা তার জন্যে ১০ হাজার ইউরো পুরস্কার ঘোষনা করছে। কেউ বলতে পারে নাই। সিএনন এর এক প্রতিবেদকরে দেয়া এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউতে পৃথিবীর সবচাইতে ধৈর্যশীল ব্যক্তি জানাইছেন, সে অনেক কিছুর জন্যেই অপেক্ষা করতেছেন কিন্তু ওইটা সেসবের তালিকা দেয়ার জায়গা না। 

‘তাইলে জায়গাটা কোনটা?’ নাছোড়বান্দা সাংবাদিক জিগাইলো। পৃথিবীর সবচাইতে ধৈর্যশীল লোকটা এই প্রশ্নের উত্তর দিলো না। সে ধীরস্থির বইসা পরবর্তী প্রশ্নের অপেক্ষা করতে লাগলো। 

সে অপেক্ষা করলো, করতেই থাকলো। আর একসময় তার বহুবছরের ভালোবাসার স্ত্রী তারে বললো, আমি প্রেমকাতর পাখিদের কিচিরমিচির সাথে নিয়া চলে যাইতেছি।  

পার্কের বেঞ্চের দুই মিটার দূরে, লোকটা দেখলো, দুইটা কবুতর একে অপরের চোখ কোনো কারণ ছাড়াই ঠোকরাইতে চাইতেছে।  কবুতর দুইটা এমনকি খাবারের জন্যেও ফাইট করতেছে না। 

‘শেইভ করো’, লোকটা,  স্বপ্নের মধ্যে  বিড়বিড় করলো, ‘হালকা গরম পানি দিয়া শেইভ করো, খুব আরাম লাগবে।’ 

[এটগার কেরেট: ইসরায়েলী লেখক। চমকপ্রদ, উদ্ভট, ম্যাজিক্যাল, সুক্ষ্মরস ও গভীর জীবনবোধের গল্প লেখক হিসেবে বিখ্যাত] 





আরও পড়ুন eআরকিতে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: