পাউবোর তাৎক্ষণিক উদ্যোগে রক্ষা পেলো দুইশ গ্রাম

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর দ্রুত উদ্যোগের কারণে বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম। তবে নতুন করে নওগাঁর নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধির কারণে বড় রকমের বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সরেজমিনে জানা যায়, নওগাঁ পাউবোর তৎপড়তায় রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার নদী সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ বালির বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে মেরামত করায় এবং রাস্তা উপচে পানি আসার পথ বন্ধ করার কারণে বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রায় দুইশ গ্রাম। এর মধ্যে রাণীনগর উপজেলার কুজাইল মসজিদ, স্লুইসগেট সংলগ্ন স্থান, ঘোষগ্রাম, মিরাপুর, রসুলপুর, নান্দাইবাড়ি ও প্রেমতলী ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে পাউবোর তত্ত্বাবধানে প্রায় পাঁচশ মিটার অংশে বালির বস্তাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে তাৎক্ষণিক মেরামত করা হয়েছে। এছাড়া আত্রাই উপজেলার মালিপুকুর, বৈঠাখালি, জাতআমরুল, নন্দনালীসহ ১২টি স্থানের আত্রাই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অংশের মোট দুই হাজার দুইশ মিটার স্থানে বালির বস্তা দিয়ে মেরামত করার কারণে এসব স্থান ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পায়। আর বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে দুই উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম।

মান্দা-আত্রাই মহাসড়কের ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের চারটি স্থান দ্রুত মেরামত করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেরামতের কাজ অব্যাহত রেখেছে।

রাণীনগরের রক্তদহ-লোহাচূড়া বিল নিষ্কাশনের স্কিমের অধীনে ৩৫ কি.মি. বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মধ্যে ছোট যমুনা নদীর মালঞ্চি নামক স্থানের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের ১৫ মিটার ভেঙে গেলে তাৎক্ষণিক তা মেরামত করা হয়েছে। যার ফলে এই অংশ দিয়ে নতুন করে পানি প্রবেশের আশঙ্কা নেই। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশে বালির বস্তা দিয়ে পানির ওভারফ্লো বন্ধ করা হয়েছে। এদিকে ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীতে পানি কমতে শুরু করলেও আবার প্রবল বৃষ্টিপাত ও নতুন করে উজান থেকে পানি নেমে আসায় বৃদ্ধি পাচ্ছে নদীর পানি। এতে করে আবারও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নদী ভাঙনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আত্রাই নদীর ৪টি পয়েন্টে, আত্রাই উপজেলায় ২টি সড়ক ও ছোট যমুনা নদীর বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থান ভেঙে জেলার রাণীনগর, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এই তিন উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে নওগাঁর মান্দা-বান্দাইখাড়া-আত্রাই-নাটোর-সিংড়া আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নওগাঁ-রাণীনগর-আত্রাই সড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অপরদিকে চলনবিল প্রকল্প পোল্ডার-সি এর অধীনে আত্রাই নদীর ৫৮ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। তবে নদীতে আবার নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী প্রবীর পাল বলেন, ‘ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে দিন-রাত পরিশ্রম করে আমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের অংশগুলো মেরামত করেছি। এছাড়াও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোও আমরা সাধ্যমতো মেরামতের কাজ অব্যাহত রেখেছি যেন নতুন করে পানি বৃদ্ধি পেলেও সেই সব স্থান ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। আমরা সব সময় আমাদের আওতায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো পর্যবেক্ষণে রাখছি।’

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘গত ১৫ জুলাই নদীগুলোতে সবোর্চ্চ পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল। যার কারণে বেড়িবাঁধের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার কিংবা মেরামত না করার কারণে কয়েকটি স্থান ভেঙে জেলার প্রায় ৩০টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও সেই সময় ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর বেড়িবাঁধের প্রায় শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বালির বস্তাসহ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে মেরামত ও পানি প্রবেশ করার পথ বন্ধ করার কারণে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার আরও প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।’ 

 





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: