টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুজন নিহত

প্রতীকী ছবিকক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনায় একাধিক মামলার দুজন পলাতক আসামি ও ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

নিহত দুজন হলেন উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের মৃত সুলতান আহমদ ওরফে চায় বাদশার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২২) ও হোয়াইক্যং পশ্চিম মহেশখালীয়াপাড়ার মৃত অলি আহাম্মদের ছেলে আবদুল জলিল (৩২)।

পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহত দুজন তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও পলাতক আসামি। সাদ্দামের নামে ইয়াবাসহ ১৭টি মামলা ও জলিলের নামে ১৩টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার ইয়াবা বড়ি, দুটি দেশীয় এলজি, ১৩টি গুলি ও নগদ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান, কনস্টেবল অভিজিৎ দাস ও মো. এমরান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গতকাল সোমবার রাত ১টার দিয়ে টেকনাফ উপজেলা হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কম্বোনিয়াপাড়ার বড়ছড়ায় মোহাম্মদ হাসান মেম্বারের বাড়ির আনুমানিক ৩০০ গজ উত্তরে খালের পাড়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে। প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ।

ওসি বলেন, সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির একটি বিশেষ দল মৌলভীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ ১৭টি মামলার পলাতক আসামি সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনে। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম তাঁর সহযোগী ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নাম-ঠিকানা স্বীকার করেন। একপর্যায়ে তাঁর হেফাজতে থাকা ইয়াবা, অস্ত্রগুলোর কথাও স্বীকার করেন। পরে ওসির (প্রদীপ কুমার দাশের) নেতৃত্বে রাত ১টার দিকে টেকনাফ উপজেলা হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কম্বোনিয়া বড়ছড়ার মোহাম্মদ হাসান মেম্বারের বাড়ির উত্তরে খালের পাড়ে পৌঁছালে সাদ্দামের সহযোগী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়। তাৎক্ষণিক জীবন রক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। উভয় পক্ষের গোলাগুলির সময় পালাতে গিয়ে সাদ্দামসহ আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন এবং কয়েকজন পালিয়ে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা দুজনসহ ১০ হাজার ইয়াবা, দুটি দেশীয় এলজি, ১৩টি গুলি ও নগদ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গুরুতর আহত সাদ্দাম, জলিল ও পুলিশের তিন সদস্যকে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রণয় রুদ্র বলেন, রাতে পুলিশ পাঁচজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর মধ্যে সাধারণ পোশাকে থাকা দুজনের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। তাঁদের শরীরে তিনটি করে গুলি লেগেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজন পুলিশ সদস্যের শরীরে স্প্লিন্টারের আঘাত হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ভোররাতে দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

২০১৮ সালের ৪ মে থেকে সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, মানব পাচারকারী দালাল চক্র ও ডাকাত দলের সঙ্গে গোলাগুলি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চারজন নারীসহ শুধু কক্সবাজার জেলায় ২৫৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ নারীসহ ৯৫ জন রোহিঙ্গা নাগরিকও রয়েছেন।





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: