উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন!

0 3
Loading...

সবচেয়ে বড় দানবীর- ইতিহাসে দাতা হাজী মুহাম্মদ মহসিনের নাম চিরস্মরণীয় – বিশ্ববরণ্য দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন হাজী মুহাম্মদ মহসিন। দানশীলতার কারণে হাজী মহসিন কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছেন। উপমহাদেশের ইতিহাসের এ বিখ্যাত দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন ১৭৩২ সালের ৩ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন।

দানের ক্ষেত্রে তুলনা অর্থে মানুষ সর্বদা তার দৃষ্টান্ত ব্যবহার করে থাকে। এই সর্বশ্রেষ্ঠ দানবীর পুরো বাঙালি জাতি হিন্দু, মুসলিম সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র।

অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন হাজী মহসিন। এসব সম্পদ তিনি দু’হাতে অকাতরে বিলিয়ে গেছেন। মহসিনের পূর্ব পুরুষরা অত্যন্ত ধনী ছিলেন। ইরান থেকে বাংলায় আসা তার বাবা হাজী ফয়জুল্লাহ ছিলেন একজন ধনী জায়গিরদার। মাতা জয়নব খানমেরও হুগলি, যশোর, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ায় বিস্তর জমি ছিল।

তাঁর বোন মন্নুজানের মৃ”ত্যুর পর উত্তরাধিকারী হিসেবে মহসিন বোনের সম্পত্তির মালিক হন। এতো সম্পদের মালিক হয়েও মহসিন ছিলেন খুব ধার্মিক ও নির’হঙ্কারী। তিনি সর্বদা সহজ সরল জীবনযাপন করতেন। তিনি ছিলেন চিরকুমার।

তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ইমাম বাড়া প্রাসাদে বাস করতেন না। ইমাম বাড়ির পাশে একটি ছোট কুটিরে বাস করতেন। আর কুরআন শরীফ নকল করে যা পেতেন তা দিয়েই চলতেন। নিজ হাতে রান্না করে অধিনস্তদের নিয়ে বসে খেতেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে হাজী মহসিন গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্জন করেছেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজধানী মুর্শিদাবাদ যান। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দেশ ভ্রমণে বের হন। তিনি মক্কা, মদিনা, কুফা, কারবালা সহ ইরান, ইরাক, আরব, তুরস্ক এমন নানা স্থান সফর করে দীর্ঘ ২৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তাঁর অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন।

হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে ‘দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। ১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং সরকারি তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।

১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন। এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়। ১৮১২ সালে এ ধার্মিক দানবীর হুগলিতে ই’ন্তে’কাল করেন। তাঁকে হুগলির ইমামবাড়ায় দা’ফ’ন করা হয়।

উল্লেখ্য, ইতিহাসে দাতা হাজী মুহাম্মদ মহসিনের নাম চিরস্মরণীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের নাম তাঁর স্মরণে রাখা হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর ঘাটির নাম বিএনএস হাজী মহসিন। এছাড়াও মহসিন ফান্ডের অর্থে অসংখ্য দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয় ভারত ও বাংলাদেশে।

জীবনের শেষ সময়ে এসে পবিত্র ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করলেন ৯২ বছরের বৃদ্ধা

ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামের নাগরিক প্রবীণ নারী জর্জেট লেপল। তার বয়স ৯২ বছর। ইসলামের সৌন্দর্য দেখে প্রতিবেশির অনুপ্রেরণায় তিনি পবিত্র ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

প্রবীণ নারী জর্জেট লেপল-এর শেষ ৫০ বছরের প্রতিবেশি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার। জর্জেট লেপলের মেয়ে ছাড়া পরিবারের কোনো সদস্য জীবিত না থাকার কারণে তিনি মুহাম্মাদের স্ত্রী ও তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

মুহাম্মাদ ও তার স্ত্রীর এক ছেলে ও ২ মেয়ের ছোট্ট পরিবারের সঙ্গী হলেন প্রবীণ এ নারী। প্রতিবেশি মুহাম্মাদের মা বেঁচে নেই। মাকে হা’রিয়ে মুহাম্মাদ পেয়েছেন নতুন মা।

জর্জেট লেপল মুহাম্মাদের পরিবারের সঙ্গে থাকাকালীন সময়ে কাছ থেকে দেখেন তাদের প্রার্থনা ও ইসলামে রীতিনীতি। এগুলোই তাকে ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে তোলে।

জর্জেট লেপল লক্ষ্য করেন, মুসলিম পরিবারের সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে কীভাবে কথা বলে, তার খোঁজ-খবর কীভাবে রাখে। তাদের পাস্পরিক সহযোগিতা, সেবা-যত্ন ও প্রার্থনা দেখে তার খুবই ভালো লাগছিলো।

জর্জেট পেপল বলেন, ‘তার নিজের মেয়ে রয়েছে কিন্তু সে মেয়ে তাকে ডাকে না, তার খোঁজ-খবরও রাখে না। অথচ মুহাম্মাদের পরিবার তার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে এবং সার্বক্ষণিক যত্ন নেয়। তাদের এ সদ্ব্যহার তাকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে।

গত রমজান মাসে জর্জেট পেপল এই মুসলিম পরিবারের সঙ্গেই মরক্কো ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি অনেক লোকের এক সঙ্গে রোজা (উপবাস) পালন করতে দেখেন এবং একে অপরের যত্ন ও মেহমানদারি করতে দেখেন।

মরক্কো থাকাকালে তিনি এ চিন্তা করে হতবাক হয়ে যান যে, জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি ইসলামের সৌন্দর্য দেখতে পেলেন। তবে জর্জেট পেপল জীবনের শেষ সময়ে এসে ইসলামের সন্ধান পেয়েও আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি মুহাম্মাদের পরিবারের সঙ্গে মরক্কো থেকে ব্রাসেলসে ফিরে আসেন। তিনি ব্রাসেলস মসজিদে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করেন। নতুন নাম রাখেন ‘নূর ইসলাম’। ৯২ বছরের বৃদ্ধা জর্জেট পেপল এখন ‘নূর ইসলাম’।

বর্তমান সময়ে সত্যিই এটি বিস্ময়কর ঘটনা। ৯২ বছরের জর্জেট পেপল ইসলাম গ্রহণ করে তৈরি করলেন নতুন এক উদাহরণ। দেরিতে হলেও তিনি পেয়েছেন সত্যের সন্ধান। জীবনের শেষ সময়ে তিনি হয়ে ওঠবেন একজন ভালো মুসলিম নারী। আল্লাহ তাআলা প্রবীণ এ নারীকে তার প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

Loading...

মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More