আল্লাহর কাছে পরিশুদ্ধ আমলের গুরুত্ব

0 12
Loading...

আল্লাহর কাছে পরিশুদ্ধ – আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রাসুলদের যা করার আদেশ করেছেন, মুমিনদেরও সেই কাজের আদেশ করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং নেক কাজ করো।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৫১)

তিনি আরো বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের আমি যেসব পবিত্র বস্তু জীবিকা হিসেবে দিয়েছি, তা থেকে আহার করো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৭২)

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক ব্যক্তির উল্লেখ করলেন, ‘যে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সফর করে। ফলে তার চুলগুলো এলোমেলো ও ধূলি-ধূসরিত রুক্ষ হয়ে পড়েছে। সে আসমানের দিকে হাত উত্তোলন করে বলছে, হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং আহার্যও হারাম। এ অবস্থায় তিনি কেমন করে তার দোয়া কবুল করতে পারেন?’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩৯৩)

আলোচ্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিশুদ্ধ আমলের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। আর মানুষের আমল পরিশুদ্ধ হয় তার নিয়ত ও জীবন-জীবিকার মাধ্যমে। ত্রুটিপূর্ণ আমল মহান আল্লাহ গ্রহণ করেন না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘…তাঁরই দিকে আরোহণ করে পবিত্র বাণীগুলো ও নেক আমল তাকে উন্নীত করে।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ১০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি হালাল কামাই থেকে একটি খেজুর পরিমাণ সদকা করবে, (আল্লাহ তা কবুল করবেন) এবং আল্লাহ শুধু পবিত্র মাল কবুল করেন আর আল্লাহ তাঁর (কুদরতি) ডান হাত দিয়ে তা কবুল করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪১০)

আমল কিভাবে পবিত্র হয়?

মানুষের আমল পবিত্র হয় বিশুদ্ধ নিয়ত, হালাল জীবিকা ও জীবনযাপনের মাধ্যমে। অন্তরের ব্যাধি, অবৈধ উপার্জন ও হারাম কাজ মানুষের জীবন ও আমল কলুষিত করে। আল্লাহ কলুষিত আমল গ্রহণ করেন না। একাধিক স্থানে মুমিনদের হালাল জীবিকা গ্রহণের নির্দেষ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদের যে পবিত্র জীবিকা দান করেছি, তা থেকে আহার করো এবং তাতে সীমা লঙ্ঘন কোরো না।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৮১)

পরিশুদ্ধ আমল ও তার গুরুত্ব

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য স্থানে ‘আমল’ শব্দের সঙ্গে ‘সালিহ’ শব্দটি গুণ বা বিশেষণ হিসেবে যুক্ত করেছেন। মুফাসসিররা ‘আমলে সালিহ’-এর ব্যাখ্যায় বলেন, এমন কাজ, যা বান্দা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করে। যে আমল কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী তথা শরিয়ত মোতাবেক হয়। সুতরাং আর ‘সালিহ’ শব্দের অর্থ শুধু ভালো নয়, বরং তার মধ্যে নিয়ত ও পদ্ধতিগত নিষ্ঠা এবং পরিশুদ্ধতার অর্থও নিহিত আছে। পবিত্র কোরআনে ‘আমলে সালিহ’ বা পরিশুদ্ধ আমলের যেসব পুরস্কার ও প্রতিদানের ঘোষণা এসেছে তার কয়েকটি হলো—

পরিশুদ্ধ আমল পরকালের সঙ্গী : মানুষের মৃত্যুর পর তার পরিশুদ্ধ আমল পরকালে তার সঙ্গী হবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তিনটি বস্তু মৃত ব্যক্তির সঙ্গী হয়ে অনুসরণ করে—এক. তার পরিবার-পরিজন; দুই. তার সম্পদ; তিন. তার আমলগুলো। অতঃপর দুটি ফিরে আসে ও একটি অবশিষ্ট থাকে। তার পরিবার-পরিজন ও তার সম্পদ ফিরে আসে আর তার আমলগুলো সঙ্গে থেকে যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫১৪)

আমলই সাফল্যের মাপকাঠি : প্রকৃতপক্ষে মানুষের পরিশুদ্ধ আমলই তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তির আমল তাকে পিছিয়ে দেয়, তার বংশপরিচয় তাকে কখনোই এগিয়ে দিতে পারে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭০২৮)

মরণাপন্ন ব্যক্তি আমলের আকাঙ্ক্ষা করবে : মৃত্যুর সময় মানুষের সামনে তার পরকালের পরিণতি স্পষ্ট হয়ে যাবে। তাই সে ভালো কাজের আকাঙ্ক্ষা করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তির মৃত্যু এসে হাজির হয় তখন সে বলে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ফেরত পাঠান, যাতে আমি ছেড়ে আসা নেক আমল করতে পারি।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৯৯-১০০)

জাহান্নামিরাও আমলে সালিহের আকাঙ্ক্ষা করবে : পরকালে যখন পরিশুদ্ধ আমল ছাড়া কোনো কিছুই কাজে আসবে না তখন জাহান্নামিরা তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং ভালো কাজের আকাঙ্ক্ষা করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং সেখানে তারা আর্তনাদ করে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নিষ্কৃতি দিন, আমরা ভালো কাজ করব—যা করতাম, তা করব না।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ৩৭)

আল্লাহ সবাইকে পরিশুদ্ধ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিসি), বাংলাদেশ পাট গবেষণা

ইনস্টিটিউট, ঢাকা

Loading...

মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More